Ads

Desk

এরশাদই হাসিনাকে অবৈধ ক্ষমতা দখলের সুযোগ দিয়েছিল

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

বিরোধী দলের নেতাদেরকে খোঁচা মেরে কথা বলা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিস্তারিত…

মোদি ৫ লাখ লোক ঠেলে দিলে হাসিনা কি ঠেকাতে পারবে?

  • Sep 4, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী আসাম রাজ্যে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের নাগরিকত্ব হারিয়েছে। তারা এখন থেকে আর আসাম রাজ্যের নাগরিক নন। তারা এখন রাষ্ট্রহীন। এই ১৯ লাখের মধ্যে ৮ লাখ মুসলমান আর বাকী ১১ লাখ হিন্দু।

ভারত সরকার গত দুই বছর ধরেই দাবি করে আসছে যে, আসামে অনুপ্রবেশকারী ৪০ লাখ বাংলাভাষী রয়েছে। তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ সহ কেন্দ্রীয় নেতারা প্রায় সময়ই হুমকি ধামকি দিচ্ছেন যে, অনুপ্রবেশকারীদেরকে ঝেটিয়ে ভারত থেকে বিদায় করা হবে। তাদেরকে খুঁজে বের করে বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

সর্বশেষ গত শনিবার তারা ১৯ লাখ লোককে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতা ও আসামের অর্থমন্ত্রী হৈমন্ত বিশ্বশর্মা রোববার বলেছেন, ১৪ লাখ লোককে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

যদিও বাংলাদেশ সরকার ভারতের এই দাবিকে নাকচ করে বলেছে- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ থেকে কোনো নাগরিক ভারতে যায়নি। আসামে বাংলাদেশের কোনো লোক নেই। ভারত সরকার কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেবে না বলেও আশা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

জানা গেছে, আসামের এই নাগরিক তালিকা প্রকাশের মূল টার্গেট হলো মুসলমান। আসাম থেকে মুসলমানদেরকে বের করে দেয়ার জন্য লক্ষ্য নিয়েই নরেন্দ্র মোদি এই এনআরসি করেছে। এর প্রমাণ হলো-আসাম রাজ্যের বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মুসলমানরা তুলনামূলক কম বাদ পড়েছে। এতে করে চরম হতাশা প্রকাশ করেছে রাজ্যের বিজেপি নেতারা। আসামের বিজেপি সভাপতি রণজিৎ কুমার দাস বলেছেন-আমরা এই এনআরসির প্রতি আস্থা রাখতে পারছি না। তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে অল আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ও আসাম পাবলিক ওয়ার্ক নামের দুইটি সংগঠন। যাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এনআরসি করার নির্দেশ দিয়েছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

মোদি-অমিত শাহ’র মূল টার্গেট হলো এই এনআরসির মাধ্যমে ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা কমিয়ে আনা। তাই নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়াদের অধিকাংশকে বাংলাদেশে ঠেলা দেয়ার চেষ্টা করবে ভারত।

এখন প্রশ্ন হলো-ভারত যদি আসাম থেকে ৫ লাখ লোককেও বাংলাদেশে ঠেলে দেয় তাহলে শেখ হাসিনা কি তা ঠেকাতে পারবে? ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কি শেখ হাসিনার সরকার শক্তভাবে দাঁড়াতে পারবে? ভারত যদি জোর করে ঠেলে দেয় তাহলে বিজিবি কি সীমান্তে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে? এসব প্রশ্ন এখন রাজনীতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে।

তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত যদি জোর করে কয়েক লাখ লোককে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় তাহলে শেখ হাসিনার পক্ষে তা ঠেকানো সম্ভব হবে না। কারণ, ভারতকে ঠেকানোর মতো নৈতিক শক্তি শেখ হাসিনার নেই। ভারতই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছে। অন্যথায় শেখ হাসিনা আরও আগেই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতেন। এখন ভারতের বিরুদ্ধে যাওয়া শেখ হাসিনার পক্ষে সম্ভব হবে না।

তাদের মতে, দেশের সংকটের চেয়ে শেখ হাসিনার কাছে এখন তার দল ও নিজের সংকট বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশ গোল্লায় যাক, তার দরকার এখন ক্ষমতা। কারণ, ক্ষমতা হাত ছাড়া হলেই এক কঠিন বিপদের মুখোমুখি হবেন তিনি। তাই, ক্ষমতার জন্য তিনি আসামের ১০ লাখ লোককে জায়গা দিতেও রাজি হবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হিন্দু নেত্রী প্রিয়া সাহার মিথ্যা নালিশের সাথে ভারতের এনআরসি প্রকাশের যোগসূত্র দেখছেন। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহী আচরণ করার পরেও প্রিয়া সাহকে শেখ হাসিনার সরকার কিছুই করার ক্ষমতা রাখেনি। আর যেহেতু প্রিয়া সাহাকে শেখ হাসিনা কিছুই বলতে পারেনি, সেহেতু ভারত বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের মত আচরণ করলেও শেখ হাসিনা কিছুই করতে পারবে না। বরং দুর্বল ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে আসাম থেকে ঠেলে দেয়া ভারতীয় নাগরিকদের সাথে রোহিঙ্গাদের সাথে খাবার ভাগ করে খাওয়ার মত ঘোষণা দিলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

হাসিনার প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ছেন ব্যারিস্টার মইনুল!

  • Sep 4, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

কথিত নারীবাদী লেখক ও সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির করা মানহানির মামলা বিস্তারিত…

জামায়াত-শিবির যখন সকল রোগের মহৌষধ!

  • Sep 3, 2019

– হাসান রূহী

বহুদিন আগে সার্ফ এক্সেল নামে একটা ডিটারজেন্ট পাউডারের বিজ্ঞাপন দেখতাম। সেখানে সকল দাগ দূর করার একমাত্র উপায় হিসেবে সার্ফ এক্সেলকে উপস্থাপন করা হতো। যেমন বলা হতো- ‘ঝোলের দাগ? চিন্তা কি! আছে সার্ফ এক্সেল…।’

যাইহোক, সার্ফ এক্সেলের বিজ্ঞাপন করার জন্য যে হাতে কলম তুলে নেই নি সে ব্যাপারে পাঠককে আশ্বস্ত করতে চাই। সেই সাথে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কিছু হতাশার খবরও শোনাতে চাই।

গত শনিবার (৩১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। গতানুগতিক পুলিশের ওপর এ হামলার ঘটনার দায় নিয়ে টুইট করে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী দায়েশ (আইএস)। ওই হামলায় পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহাবুদ্দিন ও ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল আমিনুল (৪০) আহত হন।

ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে পুলিশের ওপর চালানো হামলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেছেন- ‘নব্য জেএমবির নামে জামায়াত-শিবিরের লোকজনই পুলিশকে টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে’ পুলিশ কর্তা মনিরুলের এমন দাবি আজ নতুন নয়। বিগত প্রায় আট নয় বছর যাবতই তিনি সাংবাদিকদের কাছে যেকোনো ঘটনার দায় কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়াই হেসে হেসে জামায়াত শিবিরের উপর চালিয়ে দিতে বেশ অভ্যস্ত।

সে যাইহোক, প্রশ্ন হচ্ছে কোনো প্রকার তথ্য প্রমাণ ছাড়াই প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী একটি সুবৃহৎ রাজনৈতিক দলের ওপর মনগড়া অপবাদ চালিয়ে দিতে পারেন? এই সাহস কোথা থেকে মেলে? উত্তরও খুব কঠিন নয়। আপনাদের খুব মনে থাকার কথা। এই তো মাত্র কয়েকদিন পূর্বের ঘটনা। কুরবানীর ঈদে পশুর চামড়ার অস্বাভাবিত দর পতনের জেরে হাজার হাজার টন কাঁচা চামড়া রাস্তায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যায়। অথচ এই চামড়া ছিল বাংলাদেশের রপ্তানী খাতে তৈরী পোষাক শিল্পের পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খাত। সরকারের অবহেলার কারণে এমন ভয়াবহ অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি বাংলাদেশ আর কখনও হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। অথচ শিল্পমন্ত্রী গণমাধ্যমের সামনে এসে ঢুলতে ঢুলতে বললেন- ‘বিএনপি চামড়া কিনে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে।’ অথচ চামড়া নিয়ে যে কি হয়েছে তা দেশের কোনো মানুষেরই অজানা নয়। যে দেশের সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এধরণের দায়িত্বহীন, হাস্যকর ও ঘৃন্য মিথ্যাচার করতে পারে, সে দেশে মনিরুল সাহেবের মত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পিছিয়ে থাকবে কেন?

এগুলো যে আসলে নিজেদের অযোগ্যতা, ব্যার্থতা ও সীমাবদ্ধতা আড়ালের কৌশল তা বিবেকবান মানুষ মাত্রই বুঝতে পারবেন। তাছাড়া ইদানিং আমাদের দেশে ভাইরাল হওয়ার নেশা কিছু কিছু মানুষকে অনেকটা জামায়াত-শিবির নিয়ে কথা বলতে উৎসাহীও করে। উদাহরণ স্বরূপ দু’জন ব্যক্তির নাম না বলে পারছি না। এর একজন হচ্ছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী কমরেড আলহাজ্ব হাসানুল হক ইনু। মাত্র বছর খানেক আগেও যখন তিনি তথ্যমন্ত্রী ছিলেন, মিডিয়ার বুম আর ক্যামেরা তার সামনে আসলেই হয়তো জামায়াত-শিবির নতুবা খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিষোদগার করতেন। আর এমন সব হাস্যকর ও অযৌক্তিক কথা বলতেন তাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাস্যরস আর বিদ্রুপের বন্যা বয়ে যেত। মোট কথা যাকে বলে ভাইরাল। সবাই তখন ধারণা করতেন ভাইরাল হওয়ার নেশায়ই সম্ভবত ইনু সাহেব এমন আজগুবি তথ্য দিতেন।

অপর ব্যক্তি হলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি গোলাম মওলা রনি। যখন তিনি দেখেন যে রাজনীতির বাজারে তিনি অখাদ্য হয়ে যাচ্ছেন। তাকে কেউ আলোচনায়ই আনতে চাচ্ছেন না। তখনই তিনি জামায়াতকে জড়িয়ে পত্রিকায় কলাম লিখতে বসে যান,অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তা ছাড়েন। একপ্রকার আলোচনার বাইরে চলে যাওয়া রনি সাহেবকে তখন দেখা যায় মানুষের আলোচনার শীর্ষে! এই তো মাত্র ক’দিন পূর্বে রনি সাহেবের একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে জামায়াত রাজনীতির ময়দান থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নাকি শক্ত পোক্ত হচ্ছে তা নিয়ে তিনি এক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। সেখানে জামায়াতের রুকন সংখ্যা কত, আয় কত, কার্যক্রম কি এমন নানান তথ্যের ছড়াছড়ি। আ. লীগের একজন নেতা হওয়ার পরেও তার কাছে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক যত তথ্য রয়েছে, জামায়াতের কোনো কেন্দ্রীয় নেতার কাছেও এত তথ্য আছে কিনা কে জানে!

শুধু কি ইনু কিংবা রনি সাহেব? না। এ তালিকা দিতে শুরু করলে শেষ হওয়ার নয়। রাজনীতির ময়দানে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়া এমন শত শত ব্যক্তির তালিকা দেয়া যাবে যারা কিনা নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে সামনে জামায়াত শিবিরের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাতে তা যতই অপ্রাসঙ্গিক হোক না কেন।

এবার আসুন জনাব মনিরুলের দিকে নজর দেয়া যাক। পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, গত দশ বছর যাবত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সন্ত্রাস দমনের চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের কাজেই তাদের ব্যস্ত রাখা হয়েছে। গুম, খুন, আর নির্যাতনের মাধ্যমে বিরোধী মত দমন করে ক্ষমতার আসন পাকাপোক্ত করতেই সরকার এমনটি করেছে। ইসলাম ও ইসলামপন্থী মানুষের জাগরণকে স্তব্ধ করে দিতে রাতের আঁধারে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। কুরআন-হাদীস ও ধর্মীয় বই-পত্রকে জিহাদী বই আখ্যা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। সংবিধান সম্মত রাজনৈতিক সভা সমাবেশকে গোপন বৈঠক আখ্যা দিয়ে লাখ লাখ রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে। আর এ সব কিছুই করা হয়েছে পুলিশকে ব্যবহার করে। মিথ্যা বানোয়াট গল্প আর নাটক সাজিয়ে ইচ্ছেমত হয়রানি করা হয়েছে দেশের বিরোধী মতের মানুষদের। তৎকালীন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এসব মিথ্যা নাটকের অন্যতম নির্মাতা হিসেবেই ইতিহাসে স্থান পাবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

যাইহোক, হলি আর্টিজানে নৃশংস জঙ্গি হামলার পর এদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতার ব্যাপারে টনক নড়ে। সারা রাত চেষ্টা করেও জঙ্গিদের নিবৃত করতে না পেরে ভোরবেলা সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়। কিন্তু একে সফল অভিযান বলার সুযোগ কতটুকু তা বিচারের দায়িত্ব পাঠকের হাতেই ছেড়ে দিলাম। কিন্তু আমার আলোচনার উদ্দেশ্য ওই হামলার পরবর্তী সময়ে পুলিশ ও র‌্যাবের ভূমিকা নিয়ে।

হলি আর্টিজানের ঘটনার পর জঙ্গিদের নিয়ে অনেক রোমহর্ষক তথ্য মিডিয়ায় আসতে থাকে। কিন্তু তাদের দমনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানগুলো বিভিন্ন কারণে সাজানো নাটক হিসেবে জনগণের কাছে প্রতীয়মান হতে থাকে। কারণ এমন অনেক হাস্যকর অসংলগ্নতা সামনে আসতে থাকে তাতে এসব লোকদেখানো অভিযান বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। বরং দেখা যায়, যখনই দেশের রাজনৈতিক অবস্থা খারাপ বা কোনো আন্দোলন চাঙ্গা হচ্ছে তখনই এসব জঙ্গি দমনের একেকটি নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। কিন্তু প্রতিটি নাটকের পরেই এমন কিছু তথ্য পাওয়া যেত যা পুরো ব্যাপারটিকেই হাস্যকর করে তুলতো। যেমন, নিহত ব্যক্তির পরিবার, স্বজন কিংবা এলাকাবাসী দাবি করতো তাকে অনেকদিন আগেই পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল। কিংবা যে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছিল তা মাস খানেক আগে পুলিশই ভাড়া করেছিল। কিংবা বাসার বাইরে থেকে তালা দিয়ে ভিতরে গুলি চালিয়ে বা গ্রেনেড চার্জ করে লোকদের হত্যা করা হয়েছে। ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু এসব নাটকের ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। অর্থাৎ মূলতই যারা বিপথগামী হয়ে জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে পড়েছে তারা এতে সুযোগ পেয়েছে। ভেতরে ভেতরে তারা ঠিকেই সংঘবদ্ধ থেকেছে। আর সময়মত নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছে। গত শনিবার রাতে সায়েন্স ল্যাবের ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা তাই প্রমাণ করে।

ফলে জনগণ কিংবা সংবাদ কর্মীরা মনিরুল সাহেবদের প্রশ্ন করতেই পারে, এতই যদি জঙ্গি দমন করলেন তাহলে আবার জঙ্গি এলো কোথা থেকে? যদি জঙ্গি নাইবা থাকে তাহলে ঘটনা ঘটার খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আইএস দায় স্বীকার করে কি করে? তখন নিজেদের পিঠ বাঁচাতে দাঁত কেলিয়ে নির্লজ্জ হেসে জামায়াত শিবিরের ওপর দায় চাপানো ছাড়া মনিরুল সাহেবদের আসলেই কিছু করার থাকে না।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

কাদেরের বক্তব্যে আতঙ্কে মন্ত্রী-এমপিরা

  • Sep 2, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

উগ্রবাদী জঙ্গিরা বাংলাদেশে আবারও বড় ধরণের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিস্তারিত…

‘চির কৃতজ্ঞ’ রুমিন আর ডিসির ‘খাস কামরা’

  • Sep 1, 2019

– হাসান রূহী

ইদানিংকালে দেশের অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, তাতে দু’টি আদালতের কর্মকান্ড আমাকে বেশ আন্দোলিত করে। এর একটি উচ্চ আদালত, অপরটি জনগণের আদালত। এমন এমন বিষয় ইদানিং এই দু’টি স্থানে আলোড়ন সৃষ্টি করছে, যে অনেক সময় তা আপনার মাথার অন্তত কয়েক হাজার কিলোমিটার উপর দিয়ে চলে যাবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় দেশে উৎপাদিত পাস্তুরিত দুধের কথা। আর সে উদাহরণের জন্য একটু সংবাদ পরিক্রমা দেখাতে চাই। আশা করি পাঠক ধৈর্য্যচ্যুত হবেন না।

২৫ জুন ২০১৯ এর খবর: বাজারের প্রচলিত দুধে উদ্বেগজনকহারে এন্টিবায়োটিক, ফরমালিন ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতি

২৮ জুন ২০১৯: খাদ্যপণ্যের মান নিয়ে শিক্ষকদের গবেষণা, ঢাবির অস্বীকার

২৮ জুলাই ২০১৯: ১৪ কোম্পানির পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

৩০ জুলাই ২০১৯: প্রধানমন্ত্রী: হঠাৎ করে এক প্রফেসর সাহেব কী পরীক্ষা চালালেন

এই খবরের একটু বিস্তারিত বলা প্রয়োজন। হাইকোর্ট দুধে ভেজাল, এন্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতি দেখে ১৮ কোম্পানির দুধ বিক্রি স্থগিত করে দেয়ার একদিন পরেই প্রধানমন্ত্রী বললেন- ‘আমি জানি না হঠাৎ করে একজন প্রফেসর সাহেব কী পরীক্ষা করে বলে দিলেন, দুধ ব্যবহারযোগ্য নয়। তা নিয়ে আদালতে রিট করা হয়। বলে দেওয়া হয় দুধ ব্যবহার করা যাবে না।’

সবচেয়ে মজার ব্যাপারটি এখানে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক অত্যন্ত সিনিয়র ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন মানুষ। একদল দক্ষ গবেষক নিয়ে দুই দফা পরীক্ষা চালিয়ে তিনি পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। সেসব পরীক্ষার প্রতিবেদন আমলে নিয়েই আদালত ১৪ টি কোম্পানীকে দুধ বিক্রি বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশের সাথে সাথে বদলে যায় আদালতের নির্দেশ! পরের দিনেই খবরের শিরোনাম-

১১টি কোম্পানির দুধ উৎপাদন ও বিক্রিতে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত!

আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে শুধু এতটুকু বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর সামান্য অসন্তোষ প্রকাশেই যদি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বদলে যায়, তবে তা অতি সামান্য হলেও দৃষ্টিকটূ।

এবার চলুন জনগণের আদালতের দিকে নজর দেয়া যাক। সম্প্রতি বিএনপি নেত্রী ব্যরিস্টার রুমিন ফারহানা ও জামালপুরের ডিসি আহমেদ কবিরের খাস কামরা সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচিত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমটা আজকাল অনেকটা জনগণের আদালতে পরিণত হয়েছে। আর এখানেই জনগণ এখন অনেক কিছুর বিচার বিশ্লেষণ করে ফেলছে। যদিও এটি সবক্ষেত্রে সুখকর নয়। কিন্তু এ আদালতকে ঠেকানোও যে সম্ভব নয়!

‘দলের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পক্ষে কথা বলার জন্য সংসদে যাচ্ছি’ এমন কথা বলে ভোট ডাকাতদের সংসদে সংরক্ষিত আসনের এমপি হয়েই সরকারের কাছে ১০ কাঠা জমি চেয়ে বসলেন বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা। সাথে সাথে স্পষ্টভাবে এটাও জানালেন যে, এই ১০ কাঠা জমির বরাদ্দ পেলেই তিনি রাতের আঁধারে যারা জনগণের ভোট লুটেছে তাদের কাছে ‘চির কৃতজ্ঞ’ থাকবেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতা এদেশের জনগণকে ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে জোরেশোরে প্রচারের চেষ্টা করছেন। কারণ হিসেবে তারা বলতে চাচ্ছেন- যে দেশের স্বাধীনতার জন্য শেখ সাহেব নিজেকে উৎসর্গ করলেন, সেই দেশের জনগণই নাকি তাকে অকৃতজ্ঞের মত হত্যা করেছে। সেই কথিত ‘অকৃতজ্ঞ’ জাতি কিভাবে রুমিন ফারহানার এই ‘চিরকৃতজ্ঞ’ থাকাকে ভালো চোখে দেখবেন?

রুমিন ফারহানা হয়তো ভাবছেন সমস্যাটা সেখানেই। কিন্তু সমস্যা সেখানে নয়। দেশের মানুষ ইস্যুর ভীড়ে অনেক ইস্যু ভুলে যায়। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি কি সবকিছু ভুলে যাবে? অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর জনগণকে অন্তর্বর্তী নির্বাচনের কাঁচকলা দেখিয়ে ক্ষমতায় থেকে আবারও নির্বাচনের মূলা ঝুলিয়েছিল আওয়ামী লীগ। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থানে থাকার পরেও শেষ পর্যন্ত সে অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় বিরোধী দলগুলো। আর সেই সুযোগ নিয়েই মন ভরে জনগণের ভোট ডাকাতি করে আ. লীগ। জনগণের সাথে আ. লীগের এই নির্মম প্রহসনের দগদগে ঘা তাজা থাকতেই যে রুমিন ফারহানা সেই প্রহসনকারীদের কাছে মাত্র ১০ কাঠা জমি বরাদ্দ পাওয়ার লোভে ‘চিরকৃতজ্ঞ’ থাকার অঙ্গীকার করে বসবেন তা কে জানতো! হয়তো তিনি জনগণের পালস্ বুঝতে ভুল করেছিলেন। কিন্তু সময় নিয়ে হলেও তিনি অবশেষে জনগণের পালস্ বুঝে সেই জমি বরাদ্দের আবেদন প্রত্যাহার করেছেন।

প্রশ্ন হলো, রুমিন ফারহানা যে আবেদন করেছিলেন সেটি কোনো প্রকাশ্য বিষয় ছিল না। পুরোপুরি একটি দাপ্তরিক বিষয় ছিল। সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বরাবর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে রুমিন এই আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সরকারি দপ্তরের এমন টপ সিক্রেট তথ্য কিভাবে ফাঁস হয়ে গণমাধ্যম হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেল? কয়েকদিন আগে এক চায়ের আড্ডায় আমার জনৈক বন্ধু এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করলে জবাবে অপর বন্ধু বললো- ‘যে দেশে ডিসির খাসকামরার রতি-ক্রিয়ার ভিডিও ফেসবুকে ঘুরে বেরায়, সে দেশে একটা আবেদন পত্র ফাঁস হওয়া আর এমন কঠিন কি?’

সততা ও নৈতিকতার বিপর্যয় হতে হতে দেশের অবস্থা এমন হয়েছে যে, এখন আর এ দেশে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। এখানে রাজনীতিবিদরা যেমন অসৎ আর চরিত্রহীন। সেই রাজনীতিবিদরা যেসব আমলা আর সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ দেন তারাও অসৎ এবং চরিত্রহীন। সকলে নয়, অধিকাংশ। সারাদেশেই অনৈতিকতা চর্চার হিড়িক পড়ে গেছে। সেটা পাস্তুরিত দুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানী, সাংসদ কিংবা আমলা। কেউ কারো থেকে যেন পিছিয়ে থাকতে চাইছে না।

এই নৈতিকতার বিপর্যয় রোধে জনগণকে সচেতন হতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে সততা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে। এই লড়াইয়ে জিততে হবে। অনৈতিকতা আর চরিত্রহীনতার বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে নৈতিকতা ও সচ্চরিত্রের প্রকান্ড দেয়াল। অন্যথায় আগামীর প্রজন্মের জন্য আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

দুর্নীতির আখড়া জাহিদ মালেকের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়!

  • Sep 1, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

মাত্র কিছু দিন আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঘটে গেল এক ভয়াবহ বালিশ কেলেংকারির ঘটনা বিস্তারিত…

মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সহকারি সুপারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

  • Aug 31, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সুনাম দীর্ঘদিনের বিস্তারিত…

গুম রাজনীতির উত্থান করেছিলো শেখ মুজিব!

  • Aug 31, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশেও শুক্রবার গুম হওয়া লোকজনের পরিবারের সদস্যরা বিস্তারিত…

থেমে নেই শোকের মাসেও ছাত্রলীগের উল্লাস!

  • Aug 30, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

ক্ষমতাসীনদে জন্য আগস্ট মাস শোকের মাস। বিস্তারিত…

সরকারি সুবিধা নিতেই সংসদে গিয়েছিলেন রুমিন ও হারুন!

  • Aug 28, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ভয়াবহ ভোটডাকাতির নির্বাচন বর্জন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিস্তারিত…

শেখ হাসিনার যৌন শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরী করছে আজকের ডিসি!

  • Aug 27, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

সাম্প্রতিক সময়ের নিয়মিত সংবাদ শিরোনাম ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা। এছাড়াও যৌন হয়রানি, যৌন নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্ষণ কিংবা দুইজনের সম্মতিতে সেক্স বিনিময়ের মতো অপরাধ এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে বিস্তারিত…