Ads

Desk

তিস্তার পর ফেনী নদীকে ভারতের হাতে তুলে দিলো শেখ হাসিনা!

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

এবার ফেনী নদী থেকে পানি নেওয়ার সমঝোতা সই করেছে বাংলাদেশ। বিস্তারিত…

এবার আগরতলা-ঢাকা ফ্লাইট চাইলো ভারত

  • Oct 5, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

এবার ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার আগরতলা এবং ঢাকার মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চেয়ে আবদার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) এক দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই আর্জি জানিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব।

বিপ্লব দেব তার টুইটে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হাসিনা তার প্রস্তাবে উৎসাহ দেখিয়েছেন।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকেও বিবিসির কাছে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী দেব এবং শেখ হাসিনা আগরতলা-ঢাকা সরাসরি বিমান যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন।

আগরতলা বিমানবন্দরটি বাংলাদেশের একবারে লাগোয়া।

মাস দুয়েক আগে বাংলাদেশ এবং ভারতের বেশ কিছু গণমাধ্যমে খবর বের হয় যে, ত্রিপুরা বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য ভারত বাংলাদেশের কাছে জমি চেয়েছে।

তবে অগাস্ট মাসের মাঝামাঝি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের কাছে বিষয়টি সম্পর্কটি জানতে চাওয়া হলে, তিনি জমি চাওয়ার খবর নাকচ করে দেন।

শাহরিয়ার আলম তখন জানান, “ভারত মূলত যেটা চেয়েছে, সেটা হচ্ছে ত্রিপুরা বিমানবন্দরের রানওয়েতে লাইটের কমপ্লিট ফেইজ পূরণ করতে বাংলাদেশের অংশে কিছু লাইট বসাতে।”

আগরতলা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ নিয়ে খবরাখবরের পর এখন ঢাকা-আগরতলা সরাসরি ফ্লাইট নিয়ে ত্রিপুরা সরকারের এই আগ্রহের কথা জানা গেল।

দিল্লিতে বিবিসি বাংলার শুভজ্যোতি ঘোষ বলছেন, দিল্লিতে বাংলাদেশের হাই-কমিশন এবং ভারতীয় কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, শনিবার শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণায় ঢাকা এবং চট্টগ্রামের সাথে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর রাজধানী শহরগুলোর সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের কথা থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

এদিকে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পুরনো শিলিগুড়ি-শিয়ালদা রেলরুট পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে ভারতের রেলওয়ে। এই রেললাইনটি পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করা হবে। তবে পরে এই পথে যাত্রী পরিবহনের সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেননি কর্মকর্তারা।

রেলওয়ের মতে, শিলিগুড়ি থেকে শিয়ালদার মধ্যে বর্তমান যে রেলপথ রয়েছে তার দৈর্ঘ্য ৫৩৭ কিলোমিটার। তবে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে রুটটি চালু হলে এ দূরত্ব কমে যাবে প্রায় ২০০ কিলোমিটার। রুটটি চালু হলে দেখা যাবে শিয়ালদা থেকে ট্রেন এসে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

আর তা বেরিয়ে যাচ্ছে চিলাহাটি-হলদিবাড়ী সীমান্ত দিয়ে। অন্যদিকে শিগিগুড়ি থেকে ট্রেন হলদিবাড়ী অতিক্রম করে চিলাহাটি, ডোমার, তরুণবাড়ী, নীলফামারী, সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, দর্শনা হয়ে পেট্রাপোলে প্রবেশ করবে। উভয় ক্ষেত্রেই ট্রেন বেনাপোল-পেট্রাপোল বা পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আসা-যাওয়া করবে।

কলকাতা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ভেতর ঢুকে খানিকটা পথ অতিক্রম করার পরে আবার ভারতে প্রবেশ করতো। কিন্তু ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

প্রায় ৫৫ বছর পরে সেই পথ আবার চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যেকার চিলাহাটি-হলদিবাড়ি ব্রডগেজ রেলপথের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে।

এছাড়া তিন বছর আগে ২০১৬ সালের জুন মাসে মাশুলের বিনিময়ে ভারতকে ঘটা করে আশুগঞ্জ নৌবন্দর দিয়ে বহুমাত্রিক ট্রানজিট সুবিধা দেয় বাংলাদেশ। তৎকালীন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে আশুগঞ্জে গিয়ে এই ট্রানজিট কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

ট্রানজিট দেওয়ার আগে ট্রানজিট সুবিধায় মাশুল কত এবং অবকাঠামো কেমন হবে এবং ভারত কী পরিমাণ পণ্য নেবে—এসব নিয়ে কয়েক বছর শুধু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ট্রানজিট দেওয়ার পর দেখা গেল, গত তিন বছরে মাত্র ১৩টি চালান ভারতের কলকাতা থেকে আশুগঞ্জ হয়ে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় গেছে। এই সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে বাংলাদেশ মাশুল পেয়েছে মাত্র ২৮ লাখ টাকা। তিন বছরে ট্রানজিটের এই ফল।

গত পাঁচ মাসে ভারতের কোনো ব্যবসায়ী ওই পথে কোনো পণ্যের চালান নেননি। নৌপথটি ব্যবহারে সেই দেশের ব্যবসায়ীদের তেমন একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। তিন বছরে ট্রানজিট পণ্য হিসেবে ভারতে গেছে ইস্পাত, চাল, ভোজ্যতেল, পাথর ইত্যাদি। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান নৌ প্রটোকলের আওতায় কলকাতা থেকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত নৌপথে, আর আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া হয়ে আগরতলা পর্যন্ত সড়কপথে মাশুলের বিনিময়ে পণ্য নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ট্রানজিট নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ২০১২ সালের দিকে প্রথম আলোচনা শুরু হয়। কয়েক বছর দর-কষাকষির পর টনপ্রতি ট্রানজিট মাশুল নির্ধারিত হয় ১৯২ টাকা। এর বাইরে টনপ্রতি ৫০ টাকা নিরাপত্তা মাশুল এবং নৌবন্দরে ল্যান্ডিং শিপিং বাবদ টনপ্রতি সাড়ে ৩৪ টাকা মাশুল আছে। সব মিলিয়ে প্রতি টনে প্রায় ২৭৭ টাকা মাশুল পড়ে। এ ছাড়া মাঝনদীতে কার্গো জাহাজ অবস্থানের জন্য আলাদা মাশুল আছে।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নৌপথটি সময় ও খরচের দিক থেকে ত্রিপুরার জন্য লাভজনক। কয়েকটি চালান যাওয়ার পর ওই দেশের ব্যবসায়ীরা দেখেছেন, আশুগঞ্জে আন্তর্জাতিক মানের নৌবন্দর নেই। শুল্ক কার্যালয় ও বড় গুদাম নেই। এসব দেখে তাঁরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তাঁর মতে, এসব অবকাঠামো দ্রুত নির্মাণ করে এই ট্রানজিট পথ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

২০১৬ সালের জুন মাসে ট্রানজিট শুরু হওয়ার পর ওই বছর তিনটি চালানে ৪ হাজার ২৬২ টন পণ্য গেছে। এতে মাশুল পাওয়া গেছে ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০১৭ সালেও সব মিলিয়ে তিনটি চালান যায়। পণ্য গেছে ১ হাজার ৫৯৯ টন। মাশুল মিলেছে ৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে সবচেয়ে বেশি ছয়টি চালানে ৬ হাজার ৬৪২ টন পণ্য ত্রিপুরায় গেছে। ওই বছর এসব চালান থেকে মাশুল পাওয়া যায় ১০ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। আর চলতি বছরে যায় মাত্র একটি চালান। গত এপ্রিল মাসে এমভি নিদেশ্বরী নামের একটি জাহাজে ২ হাজার ৮০ টন পাথর আগরতলায় নেওয়া হয়েছে। এতে মাশুল পাওয়া গেছে ১ লাখ টাকার বেশি। এরপর গত পাঁচ মাসে কোনো পণ্যের চালান আশুগঞ্জ নৌবন্দর ব্যবহার করে আগরতলায় যায়নি।

তবে গত দুই মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গঙ্গাসাগর থেকে আগরতলা পর্যন্ত নির্মাণাধীন রেলপথের জন্য দুটি জাহাজে মালামাল গেছে। এটি অবশ্য ট্রানজিট পণ্য নয়।

আশুগঞ্জ নৌবন্দরের পরিদর্শক শাহ আলম গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, এপ্রিল মাসের পর আশুগঞ্জ নৌবন্দর দিয়ে কোনো ট্রানজিট পণ্য যায়নি। ট্রানজিট দেওয়ার জন্য এই বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ নৌ কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে স্বল্প মাশুলে এই পথে ট্রানজিট দিতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। এ জন্য আশুগঞ্জ নৌবন্দরের ঘাট, গুদামসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এখন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এই পথ ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে নৌবন্দরের কর্মকর্তারা জানান।

সড়কপথে ট্রানজিট দিতে ২০১৫ সালের ৩ জুন আখাউড়া-আগরতলা সীমান্ত দিয়ে পরীক্ষামূলক চালান গেছে। সড়কপথে কলকাতা থেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে আগরতলায় ওই চালান নেওয়া হয়। তাতে প্রতীকী মাশুল ছিল এক রুপি। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল (বিবিআইএন) যান চলাচল চুক্তির অংশ হিসেবে এই পরীক্ষামূলক চালান গেছে। এটি আর নিয়মিত হয়নি। নিয়মিতভাবে শুরু হয়নি পর্যটন জাহাজ চলাচলও।

এদিকে চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে এক হাজার একর জমি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের জন্য দেওয়া হয়েছে। মোংলায় দেওয়া হয়েছে ১০৫ একর জমি।

তথ্যসূত্র: বিবিসি ও প্রথম আলো

হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানাতে একজন মন্ত্রীও পাঠাননি মোদি!

  • Oct 5, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

চার দিনের সরকারি সফরে ভারতে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিস্তারিত…

খালেদাকে মাইনাসে সরকারি ষড়যন্ত্রে পা দিল বিএনপির ৬ এমপি!

  • Oct 4, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

কথিত দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বিস্তারিত…

এ খাঁচা ভাঙবো আমি কেমন করে!

  • Oct 3, 2019

– হাসান রূহী

আজ একটু অন্যভাবে কলম ধরেছি। বলতে পারেন ফুরফুরে মেজাজে। এছাড়া অবশ্য কিছু করারও নেই। চারদিকে এত এত কৌতুকপূর্ণ লুটপাটের ঘটনা ঘটছে যে, ব্যাথা বুকে নিয়েও প্রচন্ড বেগে হাসতে হচ্ছে। একেক ঘটনা দেখে মনে পড়ছে একেক রকম কৌতুক। ভাবলাম সেগুলো আপনাদের সাথেও ভাগাভাগি করা যাক। তাতে যদি আপনারাও কিছুটা ব্যাথা বুকে নিয়ে অট্টহাসি দিতে পারেন!

| এক |
ক্যাসিনো কান্ড শুরু হওয়ার পর একদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। কথায় কথায় এক বন্ধু বলে উঠলো- জানিস এখন তো আমরা বিটিভি ভারতেও সম্প্রচার করছি। কথাটা বলতেই হাসির রোল পড়ে গেল। এক রসিক বন্ধু হাসতে হাসতেই বললো- যাক বাবা! এইবার অন্তত প্রথমবারের মত আমরা কোনো অচল জিনিস ভারতে চালিয়ে দিতে পারলাম। কথা শেষ না হতেই যেন অন্যরা হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়তে লাগলো। কিন্তু ওদের ওসব হাস্যরসে গা না মাখিয়ে তখন আমি যুবলীগ নেতা সম্রাট ওরফে ক্যাসিনো সম্রাটকে নিয়ে যুগান্তরের একটা রিপোর্ট পড়ছিলাম। এতে বন্ধুরা বেশ বাধ সাধলো। একজন আমাকে অন্য কিছুটা অন্য মনস্ক ও চিন্তিত দেখে জিজ্ঞাসা করলো- এই তুই কোনোদিন বিটিভি দেখিস? আমি বললাম- অবশ্যই দেখি। বিটিভি না দেখলে দেশের মানুষ এত সুখে শান্তিতে আছে তা জানবো কি করে?

কথা শেষ না করতে আবারও হাসির রোল পড়ে গেল। একজন পিঠ চাপড়ে দিয়ে বললো- তুই ব্যাটা আসলেই একটা ক্যাসিনো লীগ। আমি বললাম এটা আবার কি! নতুন দল হইছে নাকি? আরেকজন বললো হতে আর কতক্ষণ? সরকারের ইঙ্গিতে উচ্চ আদালত দয়াল বাবা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে বাঁচানোর তাগিদে ক্যাসিনো পুরোপুরি জায়েজ করে দিলেই তো এই নামে একটা সংগঠন দাঁড় করিয়ে ফেলা যায়।

আমি ওদের থামিয়ে এবার সিরিয়াস কথা শুরু করলাম। বললাম তোরা যে এত বিটিভি নিয়ে মাতামাতি করিস, বাতাবি লেবু বলিস, দেশের অন্যান্য টিভি চ্যানেলগুলোকে তো তা বলিস না। অন্যান্য টিভি চ্যানেলগুলো বিটিভির চেয়ে কোন দিক দিয়ে ভালো? দেশের সব টিভিই তো এখন ডিজিটাল বাকশালের নরম ছোঁয়ায় বিটিভি বনে গেছে। ক্ষমতাসীন সরকার যেদিকে ইঙ্গিত করে মিডিয়াগুলো অভূক্ত সারমেয়দের মত সেদিকে কুঁই কুঁই করে ছোটে।

এই যে তোর আমার ঘরের কোনে এত এত ক্যাসিনো গড়ে উঠেছে, তা কি আমাদের মিডিয়াগুলো এর আগে কোনোদিন তুলে ধরেছে? এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে? কোনো কথা বলেছে এতদিন? নাকি এগুলো মাত্র গতকালকেই গড়ে উঠেছে? অথচ যেই মাত্র দখলদার সরকার নিজেদের ইমেজ উদ্ধারের মানসে মিডিয়াকে ইঙ্গিত দিয়েছে অমনি সরাসরি ক্যাসিনো থেকে লাইভ সম্প্রচার শুরু হয়ে গেল। একের পর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দিন-রাত প্রচার হতে শুরু করলো। এখন দেশের সব টিভিই বিটিভি। বন্ধুরা সায় দিল আমার কথায়। সেদিনের আড্ডা হাস্যরসে শুরু হলেও শেষ হলো অনেক গভীর চিন্তা মাথায় নিয়ে। সে চিন্তা দেশের চিন্তা, দশের চিন্তা।

| দুই |
অফিসে গিয়ে কাজের বিরতিতে আবারও কথা উঠলো ক্যাসিনো নিয়ে। একজন খুব আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞাসা করলো- ভাই, এদিক সেদিক দিয়ে কয়েকজন গ্রেফতার হলো। তারপর আর কোনো গ্রেফতারের খবর নাই। এমনকি সব দিক থেকে যে লোকটির দিকে আঙ্গুল উঠলো সেই ক্যাসিনো সম্রাটই তো গ্রেফতার হলো না। বিষয়টা কেমন হয়ে গেল না? আমি বললাম ভাই। ওসব উপরওয়ালাদের ব্যাপার কেন শুনতে চাও বলো তো? ভাইটি অনেকটা অসহায় ভঙ্গিতে দাঁত কেলিয়ে বললো- কি যে বলেন ভাই? আমরা কি দেশের জনগণ না? আমরা কি দেশের খবর রাখতে পারি না? আমি বললাম তোমরা তাহলে নিজেদের দেশের জনগণ মনে করতে শুরু করেছো? র‌্যাবকে খবর দিব না পুলিশকে বলো তো? মানে আমি বুঝাতে চাচ্ছি কার হাতে গুম হতে তুমি স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করবে? লোকটা ভয়ে চুপসে গেল একদমই। আমি এবার মুচকি হাসলাম। লোকটাকে অভয় দিয়ে বললাম আমরা কেমন জনগণ জানো? বলল না। আমি বললাম শোনো তাহলে তোমাকে একটা গল্প শোনাই।

এক সিংহ আহত হয়ে রাস্তার উপর অনেকটা আড়াআড়ি হয়ে পড়ে আছে। পাশ দিয়ে যাচ্ছিল এক খরগোশ। অত্যন্ত বিনয় প্রকাশ করে হাত জোর করে বললো- হুজুর আপনি রাস্তার মাঝখানে এভাবে পড়ে আছেন যে! আজ তো বেশ বৃষ্টি হচ্ছে। ঠান্ডা লেগে যাবে তো হুজুর।

সিংহ কাতর কণ্ঠে বললো- শুয়ে আছি কি সাধে রে, গুলি খেয়েছি।

খরগোশ এবার গলা মোটা করে চোখ লাল করে বললো- হারামজাদা! গুলি খেয়েছিস ভালো কথা। তাই বলে কি গোটা পথ জুড়ে শুয়ে থাকতে হবে?

আমরা যারা দেশের জনগণ বলে দাবি করি তাদের অবস্থা ওই খরগোশের মতই। ক্যাসিনো সম্রাটরা যখন তাদের সাঙ্গ পাঙ্গ সাথে নিয়ে চোখ রাঙিয়ে আমাদের ভোট ডাকাতি করে নিয়ে যায়, ফুটপাথের দরিদ্র দোকানী থেকে শুরু করে বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা তুলে নিয়ে জুয়ার আসর বসায়। সে আসরের লব্ধ একটা অংশ ক্ষমতাসীন দলের ফান্ডে গিয়ে জমা হয়। আরেকটি অংশ দলীয় প্রভাবশালী নেতাদের পকেটে যায়, তখন আমাদের কিছুই করার থাকে না। নীরব দর্শক হয়ে আমরা তা দেখতেই বরং পছন্দ করি। কিন্তু এই নবাবজাদারা যখন ফাঁদে পড়ে যায় তখন আমরাই তাদের হারামজাদা বলি। কখন তাদের নিয়ে কি নাটক তৈরী হচ্ছে তা মঞ্চস্থ হওয়ার অপেক্ষায় টিভির সামনে আর পত্রিকার পাতায় গোগ্রাসে বসে থাকি। সামাজিক মাধ্যমে নিন্দার ঝড় তুলি। নতুন প্রজন্ম তাদের নিয়ে ট্রল, মেমে আর রম্য ভিডিও বানিয়ে মনে করে মোটামুটি একটা মুক্তিযুদ্ধ করে ফেলেছে!

ধরুন, রূপপুর থেকে ফরিদপুর হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল। বালিশ, বালিশের কভার, বিছানার চাদর, জানালার পর্দা থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা কেটলি। কে কোনটা কত বেশি দামে কিনতে পারে তার যেন একটা প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু তাতে কি? জনগণ তাকিয়ে আছে ওবায়দুল কাদের কি বলে তার দিকে। তিনি অবশ্য এরই মধ্যে অনলাইনে দৃঢ় অবস্থান নেয়া সচেতন জনগণের উদ্দেশ্যে সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এটা ‘ছিঁচকে কাজ’। তিনি বলেছেন – ‘এটা হওয়া ভবনের মতো লুটপাটের বিষয় নয়। দেশটাকে লুটপাট করে খেয়েছে হওয়া ভবন। এটা আমি দাবির সঙ্গে বলতে পারি। বালিশ আর পর্দার সঙ্গে হাওয়া ভবনকে মেলানো যাবে না।’ জনগণ কেউ কেউ হয়তো ওবায়দুল কাদেরের এই বার্তা উপরোল্লিখিত খরগোশের মত বিনয়ের সাথে মেনে নিয়েছে। আর কেউ কেউ বিভিন্নভাবে নিন্দার ঝড় সৃষ্টি করে কাঁপিয়ে তুলেছেন সামাজিক মাধ্যম।

সামাজিক মাধ্যমে যারা নিন্দার ঝড় তোলেন তাদের অবস্থাটাও অনেকটা ভার্চুয়াল জগতের মতই। তাদের প্রতিবাদের ধরণ দেখলে তাদের জনগণ নয়, সর্বোচ্চ দেশের ভার্চুয়াল জনগণের মর্যাদা দেয়া যেতে পারে। আপনাদের মনে কষ্ট দেয়ার কোনো উদ্দেশ্যই আমার নেই। কেউ যদি নিজেদের জনগণ মনে না করে ভার্চুয়াল জনগণ থাকাতেই সুখ অনুভব করেন, তাতে আমি আপত্তি করার কে! আমি শুধুমাত্র চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি।

পথের পাশে এক থুত্থুরে বুড়ো ঘোড়ার পাশে এসে বসলো কাক। ঘোড়া দুর্বল কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলো – ওহে কাক, তোর কিছু দরকার আছে আমার কাছে?
কাক রাগত স্বরে বললো- তুই কবে মরবি তাই বল।
থুত্থুরে ঘোড়া জবাবে বললো – মঙ্গলবারের আগে মরছি না।
কাক বললো- তাতে কী! আমি অপেক্ষা করবো। শুক্রবার পর্যন্ত কোনো কাজই নেই আমার।

একসময়ে রাষ্ট্রীয় অনিয়মের বিরুদ্ধে জনগণ যেভাবে রাজপথে প্রতিবাদের ঝড় তুলতো, এখন সে ঝড় বয়ে যায় অনলাইনে। হাড্ডিখোর সারমেয়র ভূমিকায় থাকা গণমাধ্যমগুলোও তখন সামাজিক মাধ্যমে বয়ে যাওয়া ঝড়ের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রচার করে আত্মতুষ্টিতে ভোগে। আশির দশকের ছাত্রনেতা বলতে একদল হিরোকে বুঝানো হয়। যারা স্বৈরাচার এরশাদের দুর্নীতি, অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করে রাজপথে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতার মসনদ থেকে তাকে চিরতরে তাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আজকের প্রজন্ম দিয়ে কি তা আদৌ সম্ভব? বিতর্কের জন্য নয়। কথাগুলো বলছি চিন্তা করার জন্য। মঙ্গলবারে শেষ বিদায়ের আগ্রহ প্রকাশ করা ঘোড়ার পাশে শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষার আগ্রহ প্রকাশকারী কাকের মত যেন আমাদের তরুণ প্রজন্ম অপেক্ষা করতে চায়। ততক্ষণে দেশে যতই দুর্নীতি, অনিয়ম আর জনগণের সম্পদ লুটের ঘটনা ঘটুক। এ খাঁচা ভাঙবো আমি কেমন করে…!

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

চাঁদাবাজিতে লিপ্ত অনেক সাংবাদিক, ক্যাসিনো সুবিধাভোগী শতাধিক

  • Oct 2, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

ক্যাসিনোতে তোলপাড় সারাদেশ বিস্তারিত…

পেঁয়াজ না দিয়ে ফারাক্কা খুলে দিল মোদি!

  • Oct 1, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

আওয়ামী লীগের প্রয়াত প্রবীণ নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত প্রায় সময়ই বলতেন-আমেরিকার মতো বন্ধু থাকলে আর কারো শত্রুর দরকার নাই। সেন বাবু আজীবন বাংলাদেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে গেছেন। এজন্য ভারতের স্বার্থ বিরোধী কোনো কথা তিনি বলেন নি। তবে, আমেরিকা নিয়ে তার পেএই উক্তিটি ভারতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বাংলাদেশের জনগণ মনে করে-ভারতের মতো বন্ধু দেশ যাদের আছে তাদের আর কোনো শুত্রুর দরকার নেই। সব কিছু শেষ করে দেয়ার জন্য সর্বগ্রাসী এই বন্ধুই যথেষ্ট।

শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, ভারত বাংলাদেশের একমাত্র পরীক্ষিত বন্ধু। ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আকাশ ছোয়া।

কিন্তু, রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করে শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাদের এসব দাবি শুধু আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আওয়ামী লীগের কাছে ভারত সত্যিই পরীক্ষিত বন্ধু। কারণ, ভারতের বন্ধু থাকার কারণেই শেখ হাসিনা বার বার বিনাভোটে ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেয়েছে। আর ভারতের সাথে আকাশ ছোয়া সম্পর্ক থাকলেও আওয়ামী লীগের আছে। বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে ভারত আজ পর্যন্ত কিছুই করেনি। যা করেছে সবই তাদের অনুগত শেখ হাসিনার জন্য করেছে।

অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়-স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত ভারত যা করেছে সবই করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্বার্থে। ছলেবলে কৌশলে ভারত বাংলাদেশ থেকে অনেক সুবিধা নিয়েছে, কিন্তু বদলতে দেয়নি কিছুই। দিয়েছে শুধু সীমান্তে লাশ। আর বাংলাদেশের যুবক, তরুণ ও কিশোরদের চরিত্র ধ্বংস করার জন্য পাচার করছে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও ফেনসিডিল। বাংলাদেশের জনগণের প্রয়োজনীয় কিছুই দেয়নি। এর বাস্তব প্রমাণ গত দুই দিনের ঘটনা।

ভারতের নদীগুলোতে এবার ইলিশ মাছের উৎপাদন হয়নি। এজন্য তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজাতে এবার তারা ইলিশ খেতে পারবে না। বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বিশেষ ব্যবস্থায় ভারতে ৫০০ টন ইলিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বেনাপোল বন্দর দিয়ে সোমবার ইলিশের প্রথম চালান ভারতে পৌঁছেছে।

এই ইলিশ পেয়ে মোদি কি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন? খুবই ভাল প্রতিক্রিয়া। হঠাৎ করেই বন্ধ করে দিলেন পেঁয়াজ রপ্তানি। বন্ধু তো দূরের কথা, কোনো পরীক্ষিত শুত্রুও এমন কাজ করে না। মোদির এমন কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের মানুষ শুধু হতাশ হয়নি, প্রচন্ড ক্ষুব্ধও হয়েছে।

এরপর শুধু পেঁয়াজ বন্ধ করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি মোদি, হঠাৎ করেই ফারাক্কা বাঁধের সবগুলো গেট খুলে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এর ফলে উত্তরাঞ্চলসহ সারাদেশে বড় ধরণের বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

নরেন্দ্র মোদির এমন কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের মানুষ শুধু ক্ষুব্ধ হয়নি, উত্তরাঞ্চের মানুষ ক্ষোভে ফুসে উঠছে।

সচেতন মহল বলছেন, ভারত সব সময়ই বন্ধু সেজে শুত্রুর চেয়েও আরও বেশি খারাপ আচরণ করে। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি যদি মোদির ন্যূনতম শ্রদ্ধা ও ভালবাসা থাকতো তাহলে এমন কাজ করতে পারে না। তাদের সম্পর্ক হলো অনুগত দাস শেখ হাসিনা ও তার দলের প্রতি। ভারত একট্ আগ্রাসী দেশ। তারা কখনো প্রতিবেশি দেশের কল্যাণ চায় না। তার চায় শুধু ধ্বংস। এজন্যই বাংলাদেশের মানুষকে পানিতে চুপিয়ে মারতে ফারাক্কার সবগুলো গেট খুলে দিয়েছে।

তরুণদের হাতে ইয়াব-মাদক দিয়েই কি দক্ষতা উন্নয়নের পুরস্কার পেলেন হাসিনা!

  • Sep 29, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

এবার জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিয়ে দুইটি পুরস্কার আনতে সক্ষম হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত…

শেয়ারবাজার-ব্যাংক লুট কারীরা কি ক্যাসিনোতে থাকে?

  • Sep 27, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া নিজ দলের চাঁদাবাজ বিস্তারিত…

‘ক্যাসিনো সাঈদ’এর নৈরাজ্য!

  • Sep 26, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

তিনি যুবলীগ নেতা, আবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কাউন্সিলর। বিস্তারিত…

সেনা প্রধানের ভাতিজা,ভগ্নিপতি চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি ও ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত!

  • Sep 25, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময়ই বলে থাকেন যে, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসে ভোগ-বিলাস করার জন্য বিস্তারিত…

ক্যাসিনো সম্রাট কি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে প্রভাবশালী!

  • Sep 23, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, কৃষকলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ বিস্তারিত…