Ads

Desk

অডিও ফাঁসে বেকায়দায় জাবি ভিসি, পদ রক্ষায় দৌড়ঝাপ!

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাচারিতা বিস্তারিত…

ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, ক্ষমতার দম্ভে মানবতা কেন ভূলুণ্ঠিত হয়?

  • Sep 15, 2019

– হাসান রূহী

দখল, লুটপাট, রাহাজানি ছাত্রলীগের ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে শুধু শেখ হাসিনাই বিস্তারিত…

শেখ হাসিনার নতুন মডেলের দুর্নীতির চিত্র!

  • Sep 13, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নিয়মিতই বলে থাকেন এসবের মধ্যে তার গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা হলো-বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসলে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। রাষ্ট্রের সম্পত্তি লুটপাট, আত্মসাত ও দুর্নীতি করতে তারা ক্ষমতায় আসে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়। জনগণ উন্নত জীবন পায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বাড়ে। তার আরেকটি কথা হলো-আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। আমার বাবা দেশ স্বাধীন করেছে। দুর্নীতি-লুটপাটের জন্য আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে না। আমাদের অর্থ-সম্পদের দরকার নাই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি বন্ধ করেছে। দেশে এখন আর কোনো দুর্নীতি। এভাবেই প্রতিদিন শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতারা সভা-সমাবেশে গিয়ে জনগণের সামনে কথিত উন্নয়নের ভাঙ্গা রেকর্ড শুনিয়ে নিজেদের দুর্নীতিকে চাপা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

আর শেখ হাসিনার বিগত ১১ বছরের শাসনামল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে দুর্নীতি-লুটপাটের এত মহোৎসব অতীতে আর হয়নি। শেয়ারবাজার ও ব্যাংক লুটের ঘটনা অতীতে ঘটেনি। আর বাণিজ্যিক খাতের প্রত্যেকটি ব্যাংক সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসব ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বাণিজ্যিক খাতের ব্যাংকগুলো এখন চরম অর্থসংকটে ভুগছে। এছাড়া রাষ্ট্রের এমন কোনো সেক্টর নেই যেখান থেকে ক্ষমতাসীনরা অর্থ আত্মসাত করেনি।

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো-কথিত উন্নয়ন প্রকল্পের নামে শেখ হাসিনা এখন সারাদেশে দুর্নীতির সম্প্রসারণ করেছে। আর এসব লুটপাট-দুর্নীতিও চলছে এখন নতুন মডেলে। এ রকম স্টাইলের দুর্নীতি দেশ কখনো হয়নি। এসব লুটপাট-দুর্নীতির দিকে তাকালে নিসন্দেহে বলা যায়-বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দুর্নীতিতে নতুন মডেল। কারণ, পৃথিবীর কোথাও নতুন মডেলে দুর্নীতি হয়নি।

পাঠকদের জন্য এখানে শেখ হাসিনার নতুন মডেলের কিছু দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হলো:

পর্দা কেলেংকারি
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পর্দা কেলেংকারি নিয়ে সারাদেশ এখন তোলপাড়। হাসপাতালটির ১১ কোটি ৫৩ লাখ ৪৬৫ টাকার মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনাকাটায় বিল দেখানো হয়েছে ৫২ কোটি ৬৬ লাখ ৭১ হাজার ২০০ টাকা। এই একটি কেনাকাটাতেই মেসার্স অনিক ট্রেডার্স বাড়তি বিল দেখিয়েছে ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৩৭ টাকা।

আইসিইউতে ব্যবহৃত একটি পর্দার দাম ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছাড়াও একটি অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্ট কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। একটি ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট ৮৭ লাখ ৫০ হাজার, একটি বিএইইস মনিটরিং প্ল্যান্ট ২৩ লাখ ৭৫ হাজার, তিনটি ডিজিটাল ব্লাড প্রেসার মেশিন ৩০ লাখ ৭৫ হাজার, আর একটি হেডকার্ডিয়াক স্টেথোসকোপের দাম ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। এমন অবিশ্বাস্য দামে ১৬৬টি যন্ত্র ও সরঞ্জাম কিনেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বই কেলেংকারি
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য বই কিনেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। এই বই কেনাতেও করা হয়েছে সাগর চুরি। জানা গেছে, যে বইয়ের দাম ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। সে বইয়ের কেনার বিল করা হয়েছে ৪৩ হাজার টাকা। যে বইয়ের দাম ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা। সে বই কেনা হয়েছে ২০ হাজার ৪৮০ টাকায়। যে বইয়ের দাম ৪ থেকে পাঁচ হাজার টাকা। সে বই কেনা হয়েছে ১৪ হাজার ১৭৫ টাকা করে। যে বইয়ের বাজার মূল্য ২৯ হাজার টাকা। সে বই কেনা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা করে। যে বইয়ের বাজার মূল্য ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা। সে বই কেনা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৫ টাকা করে।

ঢেউ টিন কেলেংকারি
আরেক মহা কেলেংকারির ঘটনা ঘটেছে খাগড়াছড়ির এপিবিএন কার্যালয়ের ঢেউ টিন কেনায়। এখানে একটি টিন কেনা হয়েছে এক লাখ টাকায়। যা বর্তমান বাজার মূল্যের তুলনায় ১০০ গুণেরও বেশি। ওই মেরামতকাজে মাত্র দুই বান টিনের দাম দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। এছাড়াও কাজ শুরুর মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই বাজেটের ৭১ লাখ টাকা তুলে নেয়া হয়। অথচ মেরামত কমিটির সদস্য সচিবের দেয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থেকে জানা যায়, চার মাসে মাত্র ১৫ ভাগ কাজ হয়েছে।

রেলওয়েতে হরিলুট
রেলওয়ের কারিগরি প্রকল্পে একজন ক্লিনারের বেতন মাসে চার লাখ বিশ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। অবাক হলেও এমনই অবিশ্বাস্য বেতন ধরা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অফিস সহায়কের বেতন ধরা হয়েছে ৮৪ হাজার টাকা। রেল মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রকল্প প্রস্তাবনায় এমন বেতনের কথা বলা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্রে দেখা যায়, প্রকল্পে ক্লিনারের বেতন ধরা হয় মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর অফিস সহায়কের বেতন প্রতি মাসে ৮৩ হাজার ৯৫০ টাকা। বিদেশী পরামর্শকদের বেতন মাসে গড়ে ১৬ থেকে ২৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

নদীর তীর সংরক্ষণের নামে লুটপাট
নদী একটা, এলাকাও একটাই, কিন্তু তার তীর সংরক্ষণ ব্যয় তিন ধরনের। আর এই ব্যয় ব্যবধান ৯ থেকে ১৫ কোটি টাকা প্রতি কিলোমিটারে। প্রতিটি সাইনবোর্ড বানাতে ব্যয় সাড়ে ৫ লাখ টাকা। স্ট্যাম্প ও সিল বাবদ খরচ ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আর এই খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সন্দ্বীপ চ্যানেলের ভাঙনরোধে ৪.৪ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি ১১৮ কোটি ৩০ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে তীর সংরক্ষণের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পটি হলো নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সন্দ্বীপ চ্যানেলের ভাঙন থেকে মুসাপুর ক্লোজার, রেগুলেটর এবং সংলগ্ন এলাকা রক্ষার জন্য মুসাপুর রেগুলেটরের ডাইভারশন চ্যানেল ও সন্দ্বীপ চ্যানেলের বাম তীর প্রতিরক্ষা। এখানে ৪.৪ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি ৮৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। ১.৩ কিলোমিটার রোড নির্মাণ ও কার্পেটিং খরচ ৩ কোটি ৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা। প্রকল্পের পাঁচটি সাইনবোর্ড তৈরিতে ব্যয় হবে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা। সিল ও স্ট্যাম্প খাতে ব্যয় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

দেখা যায়, গড়ে প্রতি কিলোমিটার তীর সংরক্ষণে ব্যয় হবে ২২ কোটি ৯৩ লাখ ২ হাজার টাকা। একই নদীর একই এলাকায় তীর সংরক্ষণে ব্যয় হচ্ছে তিন ধরনের। মুসাপুর রেগুলেটরের ডাইভারশন চ্যানেলের ভাটিতে ১.৩ কিলোমিটারের জন্য ব্যয় ২২ কোটি ৮১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এখানে কিলোমিটারে ব্যয় হবে ১৭ কোটি ৫৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। আর একই চ্যানেলের উজান তীরে ৬০০ মিটার বা আধা কিলোমিটারের একটু বেশির জন্য ব্যয় ১১ কোটি ২২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। অন্য দিকে চ্যানেলের ভাটির বাম তীরে আড়াই কিলোমিটারের জন্য খরচ ৬৬ কোটি ৮৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা। এখানে কিলোমিটারে ব্যয় হবে ২৬ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।

বালিশ কাণ্ড
আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তুলতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনে ওয়াশিং মেশিনসহ অন্তত ৫০টি পণ্য ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ক্রয়মূল্যের প্রায় অর্ধেক, কোনো কোনোটিতে ৭৫ শতাংশ। আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হলো- এক কেজির মতো ওজনের একটি বৈদ্যুতিক কেটলি নিচ থেকে ফ্ল্যাটে তুলতে খরচ হয়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা। জামা-কাপড় ইস্ত্রি করার কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন ওপরে তুলতেও খরচ হয়েছে প্রায় সমপরিমাণ টাকা।

প্রায় আট হাজার টাকা করে কেনা প্রতিটি বৈদ্যুতিক চুলা ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিতে খরচ দেখানো হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টাকার বেশি। প্রতিটি শোবার বালিশ ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় এক হাজার টাকা করে। আর একেকটি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকারও বেশি। কেবল ভবনে ওঠানোর ক্ষেত্রেই নয়, আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রেও অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। ২০ তলা ওই ভবনটির প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা করে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা করে কেনা প্রতিটি রেফ্রিজারেটর ওপরে ওঠাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। একেকটি ওয়াশিং মেশিন কেনা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দরে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা করে। একেকটি ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে ২১ হাজার ২১৫ টাকায়, আর ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৮ হাজার ৯১০ টাকা করে। এছাড়া রুম পরিষ্কার করার মেশিন কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ১৮ টাকা, ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ টাকা।

প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা দরে ১১০টি খাট কিনতে খরচ হয়েছে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৭০ টাকা। খাটগুলোর প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটে নিতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা করে। একেকটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকায়, ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকা দরে কেনা সেন্টার টেবিলের প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে লেগেছে ২ হাজার ৪৮৯ টাকা।

ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের একেকটি সেট কেনা হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়, ভবনে তুলতে লেগেছে ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা করে। ৫৯ হাজার ৮৫৮ টাকা দরে ওয়ারড্রব কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকা করে। ৩৬ হাজার ৫৭ টাকা দরে ৩৩০টি মেট্রেস ও তোশক কেনা হয়েছে মোট এক কোটি ১৯ লাখ টাকায়, যার প্রতিটি ভবনে ওঠাতে খরচ করা হয়েছে সাত হাজার ৭৫২ টাকা করে।

আরও জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় একজন গাড়িচালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের বেতনের সমান। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে রাঁধুনি আর মালির বেতন ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে সর্বসাকুল্যে ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। যা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানীর ছয়গুণেরও বেশি। প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালকের মাসিক বেতন মোট ৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। যা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানীর প্রায় পাঁচগুণ।

দুর্নীতির কারখানা তিতাস
সম্প্রতি দুদকের অনুসন্ধানে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে এসেছে তিতাসে। এখানে পদে পদে দুর্নীতি অনিয়ম হচ্ছে। আর খেসারত দিচ্ছে গ্রাহকরা। যেমন-অবৈধ সংযোগ, নতুন সংযোগে অনীহা এবং অবৈধ সংযোগ বৈধ না করা, অবৈধ লাইন পুনঃ সংযোগ, অবৈধ সংযোগ বন্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া, অদৃশ্য হস্তক্ষেপে অবৈধ সংযোগ, গ্যাস সংযোগে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ না করা, বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহককে শিল্প শ্রেণির গ্রাহক হিসেবে সংযোগ প্রদান, মিটার টেম্পারিং, অনুমোদনের অতিরিক্ত বয়লার ও জেনারেটর এ গ্যাস সংযোগ, মিটার বাইপাস করে সংযোগ প্রদান সংক্রান্ত দুর্নীতি, এস্টিমেশন অপেক্ষা গ্যাস সরবরাহ কম করেও সিস্টেম লস দেখানো, ইচ্ছাকৃতভাবে ইভিসি-ইলেকট্রনিক ভলিয়ম কারেক্টর না বসানো।

দুর্নীতির শিকার ওয়াশার গ্রাহকরা
ঢাকা ওয়াসার অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সম্প্রতি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে টিআইবি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৬২ শতাংশ গ্রাহক ওয়াশা কর্মকর্তাদের দুর্নীতি অনিয়মের শিকার। এসব অনিয়মের মধ্যে- পানির সংযোগের জন্য ২০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। পয়:লাইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ৩০০-৪৫০০ টাকা, গাড়িতে জরুরি পানি সরবরাহের জন্য ২০০থেকে ১৫০০ টাকা, মিটার ক্রয়/পরিবর্তনের জন্য এক হাজার-১৫ হাজার, মিটার রিডিং ও বিল সংক্রান্ত কাজের জন্য ৫০ থেকে তিন হাজার এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে এক থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়।

দুর্নীতির কারণে ধসে পড়েছে বিমান খাত
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ১৯ খাতে দুর্নীতির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিমানের ৮ এবং বেবিচকের ১১ খাতে দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত হয়েছে।

বিমানের ৮ খাতের মধ্যে এয়ারক্রাফট কেনা ও লিজ নেয়া, রক্ষণাবেক্ষণ-ওভারহোলিং, গ্রাউন্ড সার্ভিস, কার্গো আমদানি-রফতানি, ট্রানজিট যাত্রী ও লে-ওভার যাত্রী, অতিরিক্ত ব্যাগেজের চার্জ আত্মসাৎ, টিকিট বিক্রি, ক্যাটারিং খাতের দুর্নীতি চিহ্নিত হয়েছে।

আর বেবিচকের ১১ খাতের মধ্যে আছে টাওয়ার বোর্ডিং ব্রিজসহ বড় বড় কেনাকাটা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, বিমানবন্দরের দোকান বিলবোর্ড ভাড়া, পরামর্শক নিয়োগ, কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণ, মন্ট্রিল কনভেনশন বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলট ফ্লাইং ইঞ্জিনিয়ার ও এয়ারক্রাফটের লাইসেন্স, ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্স ও সিডিউল অনুমোদন ও অপারেশনাল কাজে দুর্বলতা।

দুর্নীতির মহোৎসব স্বাস্থ্যখাতে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১টি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্রয়, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসা দেওয়া, চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইকুইপমেন্ট ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এসব খাতের দুর্নীতির সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা জড়িত। এসব দুর্নীতি ও লুটপাটের টাকা সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকদের পকেটেও যাচ্ছে। যার কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

ইভিএম ক্রয়ের দুর্নীতি আড়াল করতেই অগ্নিকাণ্ড!

  • Sep 11, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে আগুন বিস্তারিত…

হাসিনাকে পাত্তাই দিচ্ছে না ছাত্রলীগ!

  • Sep 11, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

শেখ হাসিনার সোনার ছেলে খ্যাত ছাত্রলীগ ধীরে ধীরে বেপরোয়া হয়ে উঠছে বিস্তারিত…

এই হাতকড়া শেখ হাসিনার অপেক্ষায়!

  • Sep 10, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার কারাগারে আটক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির বিস্তারিত…

সরকারের চাপে রওশনকে বিরোধী দলের নেতার পদ দিলেন কাদের!

  • Sep 9, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

এরশাদের জাতীয় পার্টিকে নিয়ে বিগত ১১ বছর ধরে খেলে আসছেন শেখ হাসিনা বিস্তারিত…

এরশাদই হাসিনাকে অবৈধ ক্ষমতা দখলের সুযোগ দিয়েছিল

  • Sep 9, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

বিরোধী দলের নেতাদেরকে খোঁচা মেরে কথা বলা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিস্তারিত…

মোদি ৫ লাখ লোক ঠেলে দিলে হাসিনা কি ঠেকাতে পারবে?

  • Sep 4, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী আসাম রাজ্যে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের নাগরিকত্ব হারিয়েছে। তারা এখন থেকে আর আসাম রাজ্যের নাগরিক নন। তারা এখন রাষ্ট্রহীন। এই ১৯ লাখের মধ্যে ৮ লাখ মুসলমান আর বাকী ১১ লাখ হিন্দু।

ভারত সরকার গত দুই বছর ধরেই দাবি করে আসছে যে, আসামে অনুপ্রবেশকারী ৪০ লাখ বাংলাভাষী রয়েছে। তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ সহ কেন্দ্রীয় নেতারা প্রায় সময়ই হুমকি ধামকি দিচ্ছেন যে, অনুপ্রবেশকারীদেরকে ঝেটিয়ে ভারত থেকে বিদায় করা হবে। তাদেরকে খুঁজে বের করে বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

সর্বশেষ গত শনিবার তারা ১৯ লাখ লোককে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতা ও আসামের অর্থমন্ত্রী হৈমন্ত বিশ্বশর্মা রোববার বলেছেন, ১৪ লাখ লোককে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

যদিও বাংলাদেশ সরকার ভারতের এই দাবিকে নাকচ করে বলেছে- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ থেকে কোনো নাগরিক ভারতে যায়নি। আসামে বাংলাদেশের কোনো লোক নেই। ভারত সরকার কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেবে না বলেও আশা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

জানা গেছে, আসামের এই নাগরিক তালিকা প্রকাশের মূল টার্গেট হলো মুসলমান। আসাম থেকে মুসলমানদেরকে বের করে দেয়ার জন্য লক্ষ্য নিয়েই নরেন্দ্র মোদি এই এনআরসি করেছে। এর প্রমাণ হলো-আসাম রাজ্যের বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মুসলমানরা তুলনামূলক কম বাদ পড়েছে। এতে করে চরম হতাশা প্রকাশ করেছে রাজ্যের বিজেপি নেতারা। আসামের বিজেপি সভাপতি রণজিৎ কুমার দাস বলেছেন-আমরা এই এনআরসির প্রতি আস্থা রাখতে পারছি না। তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে অল আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ও আসাম পাবলিক ওয়ার্ক নামের দুইটি সংগঠন। যাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এনআরসি করার নির্দেশ দিয়েছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

মোদি-অমিত শাহ’র মূল টার্গেট হলো এই এনআরসির মাধ্যমে ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা কমিয়ে আনা। তাই নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়াদের অধিকাংশকে বাংলাদেশে ঠেলা দেয়ার চেষ্টা করবে ভারত।

এখন প্রশ্ন হলো-ভারত যদি আসাম থেকে ৫ লাখ লোককেও বাংলাদেশে ঠেলে দেয় তাহলে শেখ হাসিনা কি তা ঠেকাতে পারবে? ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কি শেখ হাসিনার সরকার শক্তভাবে দাঁড়াতে পারবে? ভারত যদি জোর করে ঠেলে দেয় তাহলে বিজিবি কি সীমান্তে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে? এসব প্রশ্ন এখন রাজনীতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে।

তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত যদি জোর করে কয়েক লাখ লোককে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় তাহলে শেখ হাসিনার পক্ষে তা ঠেকানো সম্ভব হবে না। কারণ, ভারতকে ঠেকানোর মতো নৈতিক শক্তি শেখ হাসিনার নেই। ভারতই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছে। অন্যথায় শেখ হাসিনা আরও আগেই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতেন। এখন ভারতের বিরুদ্ধে যাওয়া শেখ হাসিনার পক্ষে সম্ভব হবে না।

তাদের মতে, দেশের সংকটের চেয়ে শেখ হাসিনার কাছে এখন তার দল ও নিজের সংকট বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশ গোল্লায় যাক, তার দরকার এখন ক্ষমতা। কারণ, ক্ষমতা হাত ছাড়া হলেই এক কঠিন বিপদের মুখোমুখি হবেন তিনি। তাই, ক্ষমতার জন্য তিনি আসামের ১০ লাখ লোককে জায়গা দিতেও রাজি হবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হিন্দু নেত্রী প্রিয়া সাহার মিথ্যা নালিশের সাথে ভারতের এনআরসি প্রকাশের যোগসূত্র দেখছেন। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহী আচরণ করার পরেও প্রিয়া সাহকে শেখ হাসিনার সরকার কিছুই করার ক্ষমতা রাখেনি। আর যেহেতু প্রিয়া সাহাকে শেখ হাসিনা কিছুই বলতে পারেনি, সেহেতু ভারত বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের মত আচরণ করলেও শেখ হাসিনা কিছুই করতে পারবে না। বরং দুর্বল ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে আসাম থেকে ঠেলে দেয়া ভারতীয় নাগরিকদের সাথে রোহিঙ্গাদের সাথে খাবার ভাগ করে খাওয়ার মত ঘোষণা দিলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

হাসিনার প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ছেন ব্যারিস্টার মইনুল!

  • Sep 4, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

কথিত নারীবাদী লেখক ও সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির করা মানহানির মামলা বিস্তারিত…

জামায়াত-শিবির যখন সকল রোগের মহৌষধ!

  • Sep 3, 2019

– হাসান রূহী

বহুদিন আগে সার্ফ এক্সেল নামে একটা ডিটারজেন্ট পাউডারের বিজ্ঞাপন দেখতাম। সেখানে সকল দাগ দূর করার একমাত্র উপায় হিসেবে সার্ফ এক্সেলকে উপস্থাপন করা হতো। যেমন বলা হতো- ‘ঝোলের দাগ? চিন্তা কি! আছে সার্ফ এক্সেল…।’

যাইহোক, সার্ফ এক্সেলের বিজ্ঞাপন করার জন্য যে হাতে কলম তুলে নেই নি সে ব্যাপারে পাঠককে আশ্বস্ত করতে চাই। সেই সাথে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কিছু হতাশার খবরও শোনাতে চাই।

গত শনিবার (৩১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। গতানুগতিক পুলিশের ওপর এ হামলার ঘটনার দায় নিয়ে টুইট করে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী দায়েশ (আইএস)। ওই হামলায় পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহাবুদ্দিন ও ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল আমিনুল (৪০) আহত হন।

ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে পুলিশের ওপর চালানো হামলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেছেন- ‘নব্য জেএমবির নামে জামায়াত-শিবিরের লোকজনই পুলিশকে টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে’ পুলিশ কর্তা মনিরুলের এমন দাবি আজ নতুন নয়। বিগত প্রায় আট নয় বছর যাবতই তিনি সাংবাদিকদের কাছে যেকোনো ঘটনার দায় কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়াই হেসে হেসে জামায়াত শিবিরের উপর চালিয়ে দিতে বেশ অভ্যস্ত।

সে যাইহোক, প্রশ্ন হচ্ছে কোনো প্রকার তথ্য প্রমাণ ছাড়াই প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী একটি সুবৃহৎ রাজনৈতিক দলের ওপর মনগড়া অপবাদ চালিয়ে দিতে পারেন? এই সাহস কোথা থেকে মেলে? উত্তরও খুব কঠিন নয়। আপনাদের খুব মনে থাকার কথা। এই তো মাত্র কয়েকদিন পূর্বের ঘটনা। কুরবানীর ঈদে পশুর চামড়ার অস্বাভাবিত দর পতনের জেরে হাজার হাজার টন কাঁচা চামড়া রাস্তায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যায়। অথচ এই চামড়া ছিল বাংলাদেশের রপ্তানী খাতে তৈরী পোষাক শিল্পের পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খাত। সরকারের অবহেলার কারণে এমন ভয়াবহ অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি বাংলাদেশ আর কখনও হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। অথচ শিল্পমন্ত্রী গণমাধ্যমের সামনে এসে ঢুলতে ঢুলতে বললেন- ‘বিএনপি চামড়া কিনে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে।’ অথচ চামড়া নিয়ে যে কি হয়েছে তা দেশের কোনো মানুষেরই অজানা নয়। যে দেশের সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এধরণের দায়িত্বহীন, হাস্যকর ও ঘৃন্য মিথ্যাচার করতে পারে, সে দেশে মনিরুল সাহেবের মত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পিছিয়ে থাকবে কেন?

এগুলো যে আসলে নিজেদের অযোগ্যতা, ব্যার্থতা ও সীমাবদ্ধতা আড়ালের কৌশল তা বিবেকবান মানুষ মাত্রই বুঝতে পারবেন। তাছাড়া ইদানিং আমাদের দেশে ভাইরাল হওয়ার নেশা কিছু কিছু মানুষকে অনেকটা জামায়াত-শিবির নিয়ে কথা বলতে উৎসাহীও করে। উদাহরণ স্বরূপ দু’জন ব্যক্তির নাম না বলে পারছি না। এর একজন হচ্ছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী কমরেড আলহাজ্ব হাসানুল হক ইনু। মাত্র বছর খানেক আগেও যখন তিনি তথ্যমন্ত্রী ছিলেন, মিডিয়ার বুম আর ক্যামেরা তার সামনে আসলেই হয়তো জামায়াত-শিবির নতুবা খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিষোদগার করতেন। আর এমন সব হাস্যকর ও অযৌক্তিক কথা বলতেন তাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাস্যরস আর বিদ্রুপের বন্যা বয়ে যেত। মোট কথা যাকে বলে ভাইরাল। সবাই তখন ধারণা করতেন ভাইরাল হওয়ার নেশায়ই সম্ভবত ইনু সাহেব এমন আজগুবি তথ্য দিতেন।

অপর ব্যক্তি হলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি গোলাম মওলা রনি। যখন তিনি দেখেন যে রাজনীতির বাজারে তিনি অখাদ্য হয়ে যাচ্ছেন। তাকে কেউ আলোচনায়ই আনতে চাচ্ছেন না। তখনই তিনি জামায়াতকে জড়িয়ে পত্রিকায় কলাম লিখতে বসে যান,অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তা ছাড়েন। একপ্রকার আলোচনার বাইরে চলে যাওয়া রনি সাহেবকে তখন দেখা যায় মানুষের আলোচনার শীর্ষে! এই তো মাত্র ক’দিন পূর্বে রনি সাহেবের একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে জামায়াত রাজনীতির ময়দান থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নাকি শক্ত পোক্ত হচ্ছে তা নিয়ে তিনি এক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। সেখানে জামায়াতের রুকন সংখ্যা কত, আয় কত, কার্যক্রম কি এমন নানান তথ্যের ছড়াছড়ি। আ. লীগের একজন নেতা হওয়ার পরেও তার কাছে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক যত তথ্য রয়েছে, জামায়াতের কোনো কেন্দ্রীয় নেতার কাছেও এত তথ্য আছে কিনা কে জানে!

শুধু কি ইনু কিংবা রনি সাহেব? না। এ তালিকা দিতে শুরু করলে শেষ হওয়ার নয়। রাজনীতির ময়দানে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়া এমন শত শত ব্যক্তির তালিকা দেয়া যাবে যারা কিনা নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে সামনে জামায়াত শিবিরের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাতে তা যতই অপ্রাসঙ্গিক হোক না কেন।

এবার আসুন জনাব মনিরুলের দিকে নজর দেয়া যাক। পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, গত দশ বছর যাবত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সন্ত্রাস দমনের চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের কাজেই তাদের ব্যস্ত রাখা হয়েছে। গুম, খুন, আর নির্যাতনের মাধ্যমে বিরোধী মত দমন করে ক্ষমতার আসন পাকাপোক্ত করতেই সরকার এমনটি করেছে। ইসলাম ও ইসলামপন্থী মানুষের জাগরণকে স্তব্ধ করে দিতে রাতের আঁধারে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। কুরআন-হাদীস ও ধর্মীয় বই-পত্রকে জিহাদী বই আখ্যা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। সংবিধান সম্মত রাজনৈতিক সভা সমাবেশকে গোপন বৈঠক আখ্যা দিয়ে লাখ লাখ রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে। আর এ সব কিছুই করা হয়েছে পুলিশকে ব্যবহার করে। মিথ্যা বানোয়াট গল্প আর নাটক সাজিয়ে ইচ্ছেমত হয়রানি করা হয়েছে দেশের বিরোধী মতের মানুষদের। তৎকালীন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এসব মিথ্যা নাটকের অন্যতম নির্মাতা হিসেবেই ইতিহাসে স্থান পাবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

যাইহোক, হলি আর্টিজানে নৃশংস জঙ্গি হামলার পর এদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতার ব্যাপারে টনক নড়ে। সারা রাত চেষ্টা করেও জঙ্গিদের নিবৃত করতে না পেরে ভোরবেলা সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়। কিন্তু একে সফল অভিযান বলার সুযোগ কতটুকু তা বিচারের দায়িত্ব পাঠকের হাতেই ছেড়ে দিলাম। কিন্তু আমার আলোচনার উদ্দেশ্য ওই হামলার পরবর্তী সময়ে পুলিশ ও র‌্যাবের ভূমিকা নিয়ে।

হলি আর্টিজানের ঘটনার পর জঙ্গিদের নিয়ে অনেক রোমহর্ষক তথ্য মিডিয়ায় আসতে থাকে। কিন্তু তাদের দমনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানগুলো বিভিন্ন কারণে সাজানো নাটক হিসেবে জনগণের কাছে প্রতীয়মান হতে থাকে। কারণ এমন অনেক হাস্যকর অসংলগ্নতা সামনে আসতে থাকে তাতে এসব লোকদেখানো অভিযান বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। বরং দেখা যায়, যখনই দেশের রাজনৈতিক অবস্থা খারাপ বা কোনো আন্দোলন চাঙ্গা হচ্ছে তখনই এসব জঙ্গি দমনের একেকটি নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। কিন্তু প্রতিটি নাটকের পরেই এমন কিছু তথ্য পাওয়া যেত যা পুরো ব্যাপারটিকেই হাস্যকর করে তুলতো। যেমন, নিহত ব্যক্তির পরিবার, স্বজন কিংবা এলাকাবাসী দাবি করতো তাকে অনেকদিন আগেই পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল। কিংবা যে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছিল তা মাস খানেক আগে পুলিশই ভাড়া করেছিল। কিংবা বাসার বাইরে থেকে তালা দিয়ে ভিতরে গুলি চালিয়ে বা গ্রেনেড চার্জ করে লোকদের হত্যা করা হয়েছে। ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু এসব নাটকের ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। অর্থাৎ মূলতই যারা বিপথগামী হয়ে জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে পড়েছে তারা এতে সুযোগ পেয়েছে। ভেতরে ভেতরে তারা ঠিকেই সংঘবদ্ধ থেকেছে। আর সময়মত নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছে। গত শনিবার রাতে সায়েন্স ল্যাবের ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা তাই প্রমাণ করে।

ফলে জনগণ কিংবা সংবাদ কর্মীরা মনিরুল সাহেবদের প্রশ্ন করতেই পারে, এতই যদি জঙ্গি দমন করলেন তাহলে আবার জঙ্গি এলো কোথা থেকে? যদি জঙ্গি নাইবা থাকে তাহলে ঘটনা ঘটার খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আইএস দায় স্বীকার করে কি করে? তখন নিজেদের পিঠ বাঁচাতে দাঁত কেলিয়ে নির্লজ্জ হেসে জামায়াত শিবিরের ওপর দায় চাপানো ছাড়া মনিরুল সাহেবদের আসলেই কিছু করার থাকে না।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

কাদেরের বক্তব্যে আতঙ্কে মন্ত্রী-এমপিরা

  • Sep 2, 2019

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

উগ্রবাদী জঙ্গিরা বাংলাদেশে আবারও বড় ধরণের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিস্তারিত…